২০২১-২৫ সময়কালে বিশ্বজুড়ে মোট অস্ত্র সরবরাহের ৪২ শতাংশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ এসব মার্কিন অস্ত্রের প্রধান গন্তব্য ছিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব। খবর দ্য ন্যাশনাল।
এসআইপিআরআইয়ের তথ্যানুযায়ী, গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অস্ত্র রফতানির প্রায় ১২ শতাংশই সৌদি আরবে। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র আমদানি করেছে। বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি বা রফতানির দিক থেকে সবচেয়ে বড় দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তার পরই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ফ্রান্স। দেশটি অস্ত্র রফতানিতে বৈশ্বিক বাজারে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ হিস্যা দখলে রেখেছে।
এরপর তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, জার্মানি ও চীন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি ও চীনসহ পাঁচ দেশ মিলে বিশ্বের মোট অস্ত্র সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। এছাড়া ইরান ২৫তম অবস্থানে থাকলেও দেশটি রাশিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং হুথি বিদ্রোহীদের কাছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র সরবরাহ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্ত্র আমদানির চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের পঞ্চম বছর চলমান ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে দেশটির হিস্যা ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আমদানিকারকদের শীর্ষ পাঁচ তালিকার অন্য দেশগুলো হলো ভারত, সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তান।
উপসাগরীয় দেশগুলোর (জিসিসি) অস্ত্র আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অত্যন্ত জোরালো। সৌদি আরবের মোট অস্ত্র আমদানির ৭৭ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এছাড়া কাতার (৪৮ শতাংশ), কুয়েত (৬২ শতাংশ) ও আমিরাতের (৪২ শতাংশ) মূল সরবরাহকারীও ওয়াশিংটন।
এসআইপিআরআইয়ের গবেষক জাইন হোসেনের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো পুরনো মিত্রদের পাশাপাশি নতুন সরবরাহকারীর সন্ধান করছে।
যদিও ২০২১-২৫ মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক অস্ত্র আমদানি ১৩ শতাংশ কমেছে। অস্ত্র শিল্পের রমরমা ব্যবসার চিত্র উঠে এসেছে এসআইপিআরআইয়ের ডিসেম্বরের তথ্যে। ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আয় রেকর্ড ৬৯ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ১০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টিই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক, যাদের সম্মিলিত আয় প্রায় ৩১ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার।